সাবেক অতিরিক্ত সচিবের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

অক্টোবর 17, 2026 - 17:05
0
সাবেক অতিরিক্ত সচিবের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর রমনা এলাকায় অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন একটি ভবনের নিচ থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মোশারফ হোসেনের (৭২) মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধারের পর শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে রাত পৌনে ১২টার দিকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক মোশাররফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

মোশাররফ হোসেন রাজধানীর বনানীর ৫ নম্বর রোডের একটি বাসায় ছোট মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। তাঁর বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলার দেওভুনা গ্রামে। তাঁর স্ত্রী মারা গেছেন। বড় মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি দেশে ফেরার পর মোশাররফ হোসেনের দাফন হবে। 

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন মিয়া সমকালকে তাঁর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ অ্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে তিনি জানান।

ওসি বলেন, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ছোট মেয়েকে সাঁতার শেখাতে অফিসার্স ক্লাবে যান মোশাররফ হোসেন। মেয়েকে সুইমিংপুলের কাছে রেখে তিনি নির্মাণাধীন ভবনটির ভেতরে যান। ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশ থেকে বিকেল ৫টার দিকে মৃত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ। 

তিনি বলেন, অফিসার্স ক্লাবের সিসিটিভিতে দেখা গেছে, তিনি বারবার ওপরে উঠছিলেন আর নিচে নামছিলেন। হয়তো পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে বেজমেন্ট-১–এর ফাঁকা জায়গা থেকে তিনি নিচে পড়ে যান। তাঁর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

পুলিশ ধারণা করছে, ভবনটির বেজমেন্ট-১ এর ফাঁকা জায়গা থেকে নিচে বেজমেন্ট-৩ এর মেঝেতে পড়ে তিনি আহত হতে পারেন।

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান বলেন, মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।

মোশাররফ হোসেনের মামাতো ভাই নাজমুল হাসান মিলন বলেন, তাঁর ছোট মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে। বিয়ের অনুষ্ঠানের বুকিং দিতে ওই ভবনের নির্মাণাধীন অংশে যান তিনি। চোখে অনেক কম দেখতেন। তিনি হয়তো লিফট খুঁজে পাচ্ছিলেন না। একবার সিঁড়ি দিয়ে নামছিলেন, একবার উঠছিলেন। এর মধ্যে নিচে থেকে কারেন্টের তার তোলার জন্য একটা ফাঁকা জায়গা আছে, সেখান দিয়ে অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান।

‘এই মৃত্যুতে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। আমরা পরিবারের সদস্যরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছি’ জানিয়ে নাজমুল হাসান মিলন বলেন, ঘটনার পর মরদেহ ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ডেথ সার্টিফিকেট নিতে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেলে।

RSS/SK/DR

ভালো 0
Dislike 0
ভালোবাসা 0
হাস্যকর 0
ওয়াও 0
দুঃখিত 0
ক্ষুব্ধ 0

মন্তব্য (0)

User